সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ডিমাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাধ্যতামূলক ছুটিতে

খলিলুর রহমান, বড়লেখা প্রতিনিধি ::

বড়লেখা উপজেলার ডিমাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মীর মুহিবুর রহমানকে প্রত্যাহার করে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ও এলাকা বাসির দাবিতে উপজেলা শিক্ষা অফিস এই ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

২৩ জুলাই মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থী অভিভাবক ও এলাকাবাসী। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সমাজসেবক জসিম উদ্দিন। বক্তব্য দেন সাবেক ইউপি সদস্য ইসলাম উদ্দিন, অভিভাবক বিলাল আহমদ, সুমি বেগম, ফয়সল আহমদ, মুজিবুর রহমান, আপ্তাব আলীসহ আরও অনেকে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম দুর্নীতি সহ উপবৃত্তির টাকা থেকে শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করে আসছেন। পাশাপাশি তিনি বিদ্যালয়ের একটি গাছ অবৈধভাবে কেটে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান এবং অন্যান্য গাছের ডালপালা বিক্রি করে কয়েক হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। যদিও তিনি অভিযোগ দায়েরের দিন মাত্র এক হাজার টাকা সরকারি চালানের মাধ্যমে ব্যাংকে জমা দেন। এছাড়াও বিদ্যালয়ের পুরাতন ডেক্স বেঞ্চ, খেলনার স্লিপার , পুরাতন বই ও মিলাদের চাঁদার টাকাসহ বিভিন্ন বরাদ্দের হিসাব নেই বলেও অভিযোগ করা হয়।

বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলেও অদৃশ্য প্রভাবের কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি গত ৩০ জুন প্রধান শিক্ষক নিজের পক্ষে একটি প্রতিবাদপত্র তৈরি করে কিছু ব্যক্তির স্বাক্ষর সুকৌশলে নিয়ে জমা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মীর মুহিবুর রহমান বলেন, “আমি কোনো দুর্নীতি করিনি। উপবৃত্তি নিয়ে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। আমি নিয়ম মেনেই তথ্য পাঠিয়েছি।”

তবে তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে জানান, উপবৃত্তির বিষয়ে কারিগরি সমস্যার কারণে সারাদেশে ১৭ লাখ শিক্ষার্থী বঞ্চিত হয়েছে এবং তিনি নিশ্চিত করেছেন, বাদপড়া শিক্ষার্থীদের জন্য ৯ মাসের উপবৃত্তি একত্রে দেওয়া হবে।

এদিকে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, বিদ্যালয়ের গাছ কাটার অনুমতি না নিয়ে তিনি স্কুল হতে ১০/১২ কিলোমিটার দূরের স-মিলে গাছের টুকরো গুলো কেন কার অনুমতি নিয়ে সরালেন।

সাবেক ইউপি সদস্য ও বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের এসএমসি সভাপতি সিরাজ উদ্দিন বলেন, “আমি সভাপতি থাকা অবস্থায় তার অনেক অনিয়ম পেয়েছি। এমনকি উপজেলা শিক্ষা অফিসার তাকে অপসারণের প্রতিশ্রুতি ও আমাকে দিয়েছিল কিন্তু আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি।”

সবশেষে, এলাকায় উত্তেজনার প্রেক্ষিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসার এ.কে.এম জোবায়ের আলম জানান, “২৩ জুলাই এলাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে সহকারী শিক্ষা অফিসারকে পাঠানো হয় এবং ঐ দিনই প্রধান শিক্ষককে প্রত্যাহার করে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি জেলা শিক্ষা অফিসে জানানো হয়েছে, সেখান থেকে নির্দেশনা পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, এসব অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, নতুবা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: